বিবরণ
ত্রিদিব সেনগুপ্তের লেখার একটা অন্যতম বৈশিষ্ট্য, তার অনুষঙ্গে থাকে কালিকতা। তার কারণ, তাঁর প্রাথমিক উদ্দিষ্ট, সংযোগ গড়ে তোলা, বিদ্যায়তনিক ক্ষেত্রের বাইরে বসবাসকারীদের সঙ্গে। এই উদ্দিষ্টের কারণ তাঁর রাজনৈতিক লেখাকে তিনি রাজনৈতিকই রাখতে চেয়েছেন, অ্যাকাডেমিক ডিসকোর্সের মধ্যে প্রবেশের পরেও। মেঠো রাজনীতির পঁহুছে হুয় লোগোঁ ত্রিদিবকে প্রত্যাখ্যান করে বেঁচে গিয়েছেন, অতশত জটিলতার মধ্যে ঢোকার অনড় অনভ্যাসকে টিকিয়ে রাখতে পেরেছেন। আকাডেমিয়ার ঘাটের পানি পিনেবালারা ত্রিদিবকে নোটবুকে লিখে রেখেছেন, নোট ডাউন করেছেন, তারপর ডাউন প্লে ও ফুটনোট থেকেও নাম বাদ দিয়েছেন। ত্রিদিব সেনগুপ্ত-র রাজনৈতিক অর্থনীতি-উত্তর ঔপনিবেশিক পাঠ পর্যায়ের তৃতীয় তথা অন্তিম খণ্ডে পৌঁছে এ কথাগুলো অন্তত ব্লাবে উচ্চারিত থাকুক। কথাটা শুরু হয়েছিল কালিকতা দিয়ে। কালিকতা সর্বদা সসীম। কালসীমায় আটকে পড়া। ফলে, ত্রিদিব সেনগুপ্তর লেখায় ব্যবহৃত বহু অনুষঙ্গই একেবারে বর্তমানের প্রেক্ষিত থেকে বোঝা যাবে না, সে শ্রীদেবীর লমহে প্রসঙ্গ হোক বা এরকম অন্য কিছু। এই কালিকতা ও তার সসীমতার কথা ত্রিদিব জানতেন কিন্তু কমিউনিকেশন ছিল তাঁর আরব্ধ, তখনকার বেঁচে বততে থাকা মানুষদের সঙ্গে কমিউনিকেশন।
তত্ত্বচচার দিক থেকে এই সংযোগ-প্রয়াস বিরল। সেই বিরলতা বিধৃত রেখে যাওয়া ছিল এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। অন্য দুটি খণ্ডের মতোই তৃতীয় খণ্ডও তত্ত্ব ও প্রয়োগ দুই ভাগে বিন্যস্ত হয়েছে। দুটি ভাগেই লেখা রইল একটি করে। ত্রিদিব সেনগুপ্তের চর্চা, আরো এবং অন্যতর চর্চার বিষয় হয়ে উঠবে, একদিন, নিশ্চিত।