বিবরণ
ফলিত সাহিত্য কার্যালয় নামে এক সংস্থার তরফে অর্থের বিনিময়ে ফরমায়েশি কবিতা লিখে দেওয়ার বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছিল সজনীকান্ত দাস (১৯০০-১৯৬২) সম্পাদিত শনিবারের চিঠি পত্রিকার এক সংখ্যায়। শনিবারের চিঠি মূলত পরিচিত তার ঝাঁঝালো, আক্রমণাত্মক লেখালেখির জন্য। যে কারণে সজনীকান্ত দাসের প্রতি এতদিন পরেও অনেকেই প্রতিকূল মনোভাবাপন্ন। নিজে কবি ছিলেন, এবং অন্য কবিদের আক্রমণ করতে, এমনকি তাঁদের নিয়ে প্যারোডি লিখতেও তিনি পিছ-পা হননি। সজনীকান্ত দাসের লেখালেখির পরিমাণ কম নয়, তবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজমোহন’স ওয়াইফ-এর বাংলা অনুবাদ খুব বেশি আলোচিতও নয়।
রাজমনোহন’স ওয়াইফ, ঐতিহাসিক একটা ঘটনা, শুধু এ কারণেই যে এটি সম্ভবত কোনো এশিয়ের লেখা প্রথম ইংরেজি উপন্যাসও বটে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই উপন্যাস লিখেছিলেন ধারাবাহিক হিসেবে, ইন্ডিয়ান ফিল্ড পত্রিকায়। প্রকাশিত হবার অনেক পরে, জীবনের শেষ দিকে, তিনি নিজে এর অনুবাদকর্ম শুরু করেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি। সজনীকান্ত দাস পরবর্তীকালে এটি অনুবাদ করেন। কেতাব-ই সংস্করণের ভূমিকায় বঙ্কিমচন্দ্র লিখিত উপন্যাসটিকে গবেষকের নজরে ব্যবচ্ছেদ করেছেন সম্পাদক সৌরভ দাশঠাকুর, যা বঙ্কিমচর্চায় উল্লেখযোগ্য সংযোজন হয়ে থাকল তো বটেই, একইসঙ্গে সম্ভাবনা তৈরি করল এই বইটি বারংবার পাঠেরও।