বিবরণ
সাহিত্যের অতীত ধনভাণ্ডার খুলে তার গৌরবময় অধ্যায় সঠিকভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা কোনো অনায়াসসাধ্য কাজ নয়। অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯) সেটাই দায়িত্বের সঙ্গে করতে সক্ষম হয়েছিলেন। উনিশ শতকের শেষভাগে যখন বাংলাভাষার ইতিহাসকে খুঁজে দেখার বিষয়টা সেভাবে আদৌ গুরুত্ব লাভ করেনি, তখনই দীনেশচন্দ্র সেন, কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক, পুরনো অমূল্য পাণ্ডুলিপি খোঁজাখুঁজিতে অনেকগুলো বছর অতিবাহিত করে ফেলেছিলেন এবং অধিকাংশক্ষেত্রেই সেই অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে প্রত্যন্ত গ্রাম-গ্রামান্তরে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন প্রায় পায়ে হেঁটেই। এই কঠোর পরিশ্রমের অমোঘ ফলস্বরূপ ১৮৯৬ সালে প্রকাশিত হয় 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' এবং তা গোটা সমাজকে নড়ে বসতে বাধ্য করে। এরপরেও তিনি তাঁর গবেষণা চালিয়ে যান এবং বৃহৎবঙ্গ, ময়মনসিংহ গীতিকা, পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকার মত রচনার মধ্যে একের পর এক কীর্তি স্থাপন করে চলেন। অধ্যাপক সেন 'পূর্ব্ববঙ্গ গীতিকা'র চারটি খণ্ডের মধ্যে সেদিনের বিস্মৃত ও দুর্লভকনা সম্ভারগুলি বাঙালিজাতির দরবারে ফিরিয়ে দিয়েছেন যা তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। অথচ সেগুলি যুগের পর যুগ মানুষের চোখের আড়ালেই পড়ে ছিল। এই কর্মযজ্ঞের দ্বারা তিনি শুধু ঘরে নয়, বহির্বিশ্বেও সমাদর লাভ করেন। সিলভাঁ লেভি, গ্রীয়ার্সন, রোদেনস্টাইন এঁরা তাঁকে বহু প্রশংসা করেছেন।