বিবরণ
এই উপন্যাস একদিকে ইতিহাসের রক্তাক্ত দলিল, অন্যদিকে মানুষের অন্তর্গত উন্মাদনার প্রতিচ্ছবি। বড়গাঁ এখানে কেবল শহর নয়, বরং সভ্যতার নগরায়নের এক প্রতীক, যেখানে উন্নতি মানে নর্দমা, মোবাইল টাওয়ার, রক্ত, আর ভাঙা স্বপ্নের গহ্বর। এই কাহিনির পাগল চরিত্রটি যেন সত্য ও মায়ার সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা এক ভবঘুরে—যে ইতিহাসকে দেখে কিংবদন্তি রূপে, আর আদর্শকে দেখে উন্মাদের হাসিতে। গীর্বান ও গুহরায়ের সংঘাতের মাঝেই তার অস্তিত্ব ঝলকে ওঠে—কখনও প্রলাপ, কখনও ভবিষ্যদ্বাণীতে। পাগলটি তাই কেবল একজন নয়, সে যেন সময়ের অন্তঃকরণ, যে চিরকাল মরিয়া প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে স্মৃতিভ্রষ্ট মুণ্ডহীন ধড়রূপী জনসাধারণের মাঝখানে। শব্দ, নীরবতা, কিংবদন্তি আর আদর্শের অন্তর্লীন ঘাতক টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে উপন্যাসটি হয়ে ওঠে অস্তিত্বের দার্শনিক দলিল।